প্রকাশিত:
২৬ জানুয়ারী, ২০২৬

মার্কিন ডলারের বিপরীতে সিঙ্গাপুর ডলার ২০১৪ সালের অক্টোবরের পর সর্বোচ্চ শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছেছে। চলতি সপ্তাহে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক নীতিগত অবস্থান অপরিবর্তিত রাখতে পারে—এমন প্রত্যাশার মধ্যেই মুদ্রাটির এই উত্থান দেখা যাচ্ছে।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি ২০২৬) আন্তর্জাতিক মুদ্রা বাজারে মার্কিন ডলারের বিপরীতে সিঙ্গাপুর ডলারের মান ০.৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১.২৬৮৪-এ দাঁড়িয়েছে। এটি ২০১৪ সালের অক্টোবরের পর থেকে গত ১০ বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে সিঙ্গাপুর ডলারের শক্তিশালী অবস্থান।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই মার্কিন ডলারের বিপরীতে এশিয়ার মুদ্রাগুলো ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে। তবে সিঙ্গাপুর ডলারের এই উত্থান বিশ্লেষকদের নজর কেড়েছে।
মার্কিন ডলারের এই দুর্বলতার সুযোগে অন্যান্য এশীয় মুদ্রাও লাভবান হয়েছে। মালয়েশিয়ার রিঙ্গিত ২০১৮ সালের পর সর্বোচ্চ শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছেছে। একই সঙ্গে দক্ষিণ কোরিয়ার ওন প্রায় তিন সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছে। জাপানি ইয়েনের মূল্য ১.২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সিঙ্গাপুর ডলারের এই অভাবনীয় উত্থানের পেছনে তিনটি প্রধান কারণ কাজ করছে:
১) সিঙ্গাপুরের কেন্দ্রীয় ব্যাংক (Monetary Authority of Singapore - MAS) সুদের হারের পরিবর্তে মুদ্রার বিনিময় হার (Exchange Rate) নিয়ন্ত্রণ করে মূল্যস্ফীতি সামাল দেয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংক তাদের কঠোর অবস্থান বজায় রাখার আভাস দেওয়ায় বিনিয়োগকারীদের আস্থা বেড়েছে।
২) যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার কমানোর ঘোষণা দিতে পারে—এমন পূর্বাভাসের কারণে গত সপ্তাহ থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে গ্রিনব্যাকের (মার্কিন ডলার) চাহিদা কিছুটা কমেছে।
৩) জাপানি ইয়েন এবং মালয়েশীয় রিঙ্গিতের শক্তিশালী হওয়া এশীয় অঞ্চলের মুদ্রাবাজারে একটি ইতিবাচক ধারা তৈরি করেছে, যার সুফল সরাসরি সিঙ্গাপুর ডলার পাচ্ছে।
"সিঙ্গাপুরের শক্তিশালী অর্থনীতি এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বচ্ছ নীতি বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য এই মুদ্রাকে একটি 'সেফ হ্যাভেন' বা নিরাপদ বিনিয়োগের মাধ্যম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।" — লয়েড চ্যান, জ্যেষ্ঠ মুদ্রা বিশ্লেষক।
উল্লেখ্য, সিঙ্গাপুরের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হার পরিবর্তনের পরিবর্তে মুদ্রার বিনিময় হার ব্যবস্থাপনায় বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকে। দেশটির শেয়ারবাজার, সরকারি বন্ড এবং ধারাবাহিকভাবে স্থিতিশীল নীতির কারণে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়ছে।
এর ফলশ্রুতিতে, গত ১২ মাসে মার্কিন ডলারের বিপরীতে সিঙ্গাপুর ডলারের মূল্য প্রায় ৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
সিঙ্গাপুর ডলার শক্তিশালী হওয়ার ফলে দেশটিতে আমদানি করা পণ্যের দাম কমতে পারে, যা স্থানীয় মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করবে। তবে রফতানি খাতের জন্য এটি কিছুটা চ্যালেঞ্জিং হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন, ২০২৬ সাল জুড়ে সিঙ্গাপুর ডলার তার এই শক্তিশালী অবস্থান ধরে রাখবে।